ভারতের স্মার্টফোন বাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ব্র্যান্ডগুলোও তত বেশি মনোযোগ দিচ্ছে ব্যবহারকারীর চাহিদার দিকে। রিয়েলমি সেই তালিকায় বরাবরই অন্যতম। এবার ব্র্যান্ডটি আনছে তাদের নতুন মিড-রেঞ্জ গেমিং স্মার্টফোন realme P4x 5G—যা পারফরম্যান্স, কুলিং সিস্টেম এবং দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তিতে এক নতুন অভিজ্ঞতা যেন হাতে তুলে দেবে।
এই ফোনটি মূলত তাদের জন্য, যারা দিনে বহু ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করেন, গেম খেলেন, মাল্টিটাস্ক করেন এবং বড় ব্যাটারি চান। রিয়েলমি P-সিরিজের আগের মডেলগুলো বাজারে ভালো সাড়া পেয়েছিল, আর সেই ট্রেন্ডকে আরও শক্তিশালী করতেই আসছে P4x 5G। আসুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
ডিজাইন: স্লিম, স্টাইলিশ এবং আধুনিক লুক -realme P4x 5G
realme P4x 5G-এর ডিজাইন দেখলেই বোঝা যায় যে এটা তরুণ ব্যবহারকারীদের মাথায় রেখেই তৈরি। সামনে একটি ফ্ল্যাট ডিসপ্লে, মাঝখানে ছোট পাঞ্চ-হোল ক্যামেরা আর চারদিকে খুবই স্লিম বেজেল—যা পুরো স্ক্রিনকে আরও প্রিমিয়াম অনুভব করায়।
ফোনের রিয়ার প্যানেল ম্যাট-ফিনিশড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট কম দেখা যায়, আর ক্যামেরা মডিউলটি দুটো বড় লেন্স সহ প্রিমিয়াম ফোনের মতোই দেখতে। এটি হাতে ধরলে খুব ভারী মনে হয় না, আবার খুব হালকাও নয়—ব্যবহারে একটা ভারসাম্যপূর্ণ অনুভূতি দেয়।
ডিসপ্লে: বড় স্ক্রিন, মসৃণ এক্সপেরিয়েন্স
গেমিং ও কনটেন্ট ভিউঅিংয়ের কথা মাথায় রেখে P4x-এ দেওয়া হয়েছে বড় এবং চোখে আরামদায়ক ডিসপ্লে।
- সম্ভাব্য সাইজ: ৬.৭–৬.৮ ইঞ্চি
- রেজোলিউশন: ফুল HD+
- স্মুথ স্ক্রলিংয়ের জন্য উচ্চ রিফ্রেশ রেট (৯০Hz – ১৪৪Hz)
- পাঞ্চ-হোল কাটআউট
ফোনটি সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, ইউটিউব দেখা, কনটেন্ট স্ট্রিমিং বা গেমিং—যাই করেন না কেন, সবক্ষেত্রেই দেবে দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা।
পারফরম্যান্স: ৯০টি অ্যাপ একসঙ্গে চালানোর দাবি!
realme P4x 5G-এর সবচেয়ে বড় USP হলো এর মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা। ব্র্যান্ড দাবি করেছে, ফোনটি একসঙ্গে ৯০টি অ্যাপ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে—যেখানে ল্যাগ বা স্লো হওয়ার সমস্যা হবে না।
এটা সম্ভব হয়েছে শক্তিশালী চিপসেট এবং RAM ম্যানেজমেন্টের অপটিমাইজেশনের কারণে।
- প্রসেসর: MediaTek Dimensity সিরিজের নতুন জেনারেশন চিপ
- RAM: বড় RAM + RAM Expansion প্রযুক্তি
- স্টোরেজ: UFS ভিত্তিক দ্রুত স্টোরেজ
গেমারদের কথা আলাদাভাবে ভাবা হয়েছে। GT Mode চালু করলে ফোনটি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করে এবং সাপোর্ট করে ৯০fps গেমিং পারফরম্যান্স।
PUBG, Free Fire Max, Call of Duty Mobile—এসব গেমে আপনি আরও বেশি ফ্রেম রেট এবং কম ল্যাগ পাবেন।
কুলিং সিস্টেম: গেমারদের জন্য দুর্দান্ত সুবিধা-realme P4x 5G
গেমিং ফোনে কুলিং এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গেম বেশি খেললে ফোন গরম হয়ে গেলে পারফরম্যান্স কমে যায়। তাই রিয়েলমি এই ফোনে যুক্ত করেছে উন্নত VC (Vapour Chamber) কুলিং সিস্টেম।
এই কুলিং সিস্টেম:
- দ্রুত তাপমাত্রা কমায়
- দীর্ঘ গেমিং সেশনে ফোনকে ঠান্ডা রাখে
- পারফরম্যান্স ড্রপ হওয়া থেকে রক্ষা করে
এই ফিচার সাধারণত বেশি দামের ফোনেই দেখা যায়—তাই বাজেট সেগমেন্টে এটি সত্যিই প্রশংসনীয় সংযোজন।
ব্যাটারি: দীর্ঘ সময় ব্যবহারকারীদের জন্য বড় পাওয়ার ব্যাকআপ
realme P-সিরিজের অন্যতম পরিচয়—বড় ব্যাটারি। P4x 5G-ও তার ব্যতিক্রম নয়।
- ব্যাটারি ক্যাপাসিটি: ৭,০০০mAh (সম্ভাব্য)
- ব্যবহার সময়: সহজেই ২ দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ
- ভারী গেমিংয়েও দীর্ঘ সময় টিকে থাকবে
বড় ব্যাটারি মানেই বেশি ওজন—অনেকে ভাবতে পারেন। কিন্তু রিয়েলমি ডিজাইন অপটিমাইজ করে ফোনটিকে ভারসাম্যপূর্ণ ও হাতে আরামদায়ক করেছে।
চার্জিং: দ্রুত, ঠান্ডা এবং ইন্টেলিজেন্ট চার্জিং টেকনোলজি
realme P4x 5G-এ আছে 45W ফাস্ট চার্জিং, যার সঙ্গে থাকছে একটি বিশেষ ফিচার—Bypass Charging প্রযুক্তি।
এটি কী?
যখন আপনি গেম খেলছেন এবং ফোন চার্জে লাগানো আছে—তখন চার্জ সরাসরি ব্যাটারিতে না গিয়ে যায় মাদারবোর্ডে। ফলে—
- ব্যাটারি কম গরম হয়
- ফোন গেমিং-এ ঠান্ডা থাকে
- ব্যাটারির লাইফ দীর্ঘ হয়
এটি সত্যিই একটি প্রিমিয়াম গেমিং ফিচার, যা বাজেট ফোনে সচরাচর দেখা যায় না।
ক্যামেরা: ডেইলি ইউজের জন্য কার্যকরী, স্মুদ ক্যামেরা অভিজ্ঞতা
এটি গেমিং ফোন—তাই ক্যামেরা ফোকাসড নয়, তবে ডেইলি ইউজের জন্য যথেষ্ট ভালো।
সম্ভাব্য সেটআপ:
- ৫০MP প্রধান ক্যামেরা
- ২MP সেকেন্ডারি সেন্সর
- ৮MP সেলফি ক্যামেরা
ডে-লাইট ফটোগ্রাফি, পোর্ট্রেট শট, ভিডিও রেকর্ডিং—সবই ভালো হবে। রাতের ছবি বা উচ্চ ডাইনামিক রেঞ্জের ফটো তোলার ক্ষেত্রে এটি ফ্ল্যাগশিপের মতো পারফর্ম না করলেও, দামের হিসেবে ক্যামেরা যথেষ্ট ভালো মানের।
সফ্টওয়্যার ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স
ফোনটি আসবে Realme UI সহ, যা ব্যবহার করতে সহজ এবং দ্রুত। এই UI-তে:
- মসৃণ অ্যানিমেশন
- গেম মোড
- স্মার্ট পারফরম্যান্স অপ্টিমাইজেশন
- উন্নত ব্যাটারি সেভিং
- প্রাইভেসি ফিচার
সব মিলিয়ে এক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং দ্রুত ইন্টারফেস পাওয়া যাবে।
কার জন্য এই ফোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত?
১. গেমারদের জন্য
৯০fps গেমিং, GT মোড, উন্নত কুলিং—সবমিলিয়ে নিখুঁত।
২. মাল্টিটাস্কারদের জন্য
একসঙ্গে ৫০+ অ্যাপ সহজে চালাতে পারবেন।
৩. দীর্ঘ সময় ব্যবহারকারীদের জন্য
বড় ব্যাটারি + স্মার্ট চার্জিং = দুই দিনের ব্যাকআপ।
৪. ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের জন্য
ডিজাইন, পারফরম্যান্স, স্টোরেজ—সব মিলিয়ে ডেইলি ইউজে দারুণ।
প্রতিযোগীদের সঙ্গে তুলনা-realme P4x 5G
realme P4x 5G বাজারে প্রতিযোগিতা করবে নিম্নলিখিত ফোনগুলোর সঙ্গে:
- POCO X সিরিজ
- iQOO Z সিরিজ
- Samsung M-Series
- Vivo T-Series
কিন্তু কুলিং সিস্টেম + GT গেমিং + বড় ব্যাটারি—এই তিনটি ফিচারের সমন্বয় অল্প ফোনেই দেখা যায়।
দামের সম্ভাবনা (ভারত)
রিয়েলমি সাধারণত বাজেট ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করেই P-সিরিজ তৈরি করে। অনুমান করা হচ্ছে P4x 5G-এর দাম হতে পারে—
₹13,999 – ₹15,999 (6GB/128GB)
₹16,999 – ₹17,999 (8GB/128GB বা 8GB/256GB)
এই দামে ফোনটি বাজারে তুমুল প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।
কেন কিনবেন? (Strong Reasons)
- দুর্দান্ত গেমিং পারফরম্যান্স
- বড় ব্যাটারি
- উন্নত কুলিং প্রযুক্তি
- দ্রুত চার্জিং + বাইপাস চার্জিং
- আকর্ষণীয় ডিজাইন
- বাজেটে শক্তিশালী মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা
কেন না কিনলেও পারেন? (Weak Points)
- ক্যামেরা খুব বেশি উন্নত নয়
- AMOLED ডিসপ্লে নাও থাকতে পারে
- ওজন কিছুটা বেশি হতে পারে
- অতিরিক্ত গেমিং ফিচারের কারণে অনেকের কাছে দাম বেশি মনে হতে পারে
realme P4x 5G হলো এমন একটি স্মার্টফোন, যা মূলত পারফরম্যান্স, গেমিং এবং ব্যাটারি-ব্যাকআপের দিকে ফোকাস করে তৈরি। এটি তরুণ ব্যবহারকারী, গেমার এবং দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নিখুঁত অ্যান্ড্রয়েড ফোন হতে পারে।
অন্য ব্র্যান্ডও এই রেঞ্জে ফোন আনে, কিন্তু রিয়েলমি এখানে কুলিং, গেমিং, চার্জিং—সবকিছু মিলিয়ে একটি পাওয়ার-প্যাকড প্যাকেজ তৈরি করেছে।
এই দামে যদি রিয়েলমি P4x 5G বাজারে আসে, তবে বলা যায়—এটি ২০২৫ সালের অন্যতম সেরা বাজেট গেমিং ফোন হতে পারে।
Read More :- Realme C85 5G: বাজেট সেগমেন্টে নতুন তুরুপের তাস

