বর্তমান সময়ে স্মার্ট টিভি মানুষের জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। সিনেমা, গান, গেমস, ইউটিউব কিংবা OTT প্ল্যাটফর্ম—সবকিছু উপভোগ করার জন্য একটি উন্নত মানের টিভি এখন প্রয়োজনীয়। ভারতীয় গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে বিখ্যাত ব্র্যান্ড Philips বাজারে এনেছে তাদের নতুন Philips Frameless 32 inch HD Ready LED Smart Google TV (2025)।
এই টিভিটি ডিজাইন, ডিসপ্লে, সাউন্ড, স্মার্ট ফিচার, কানেক্টিভিটি এবং প্রাইস—সব দিক থেকেই ব্যবহারকারীদের একটি প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম। আসুন এবার বিস্তারিতভাবে টিভিটির প্রতিটি দিক আলোচনা করা যাক।
১. ডিজাইন ও লুক Philips Frameless 32 Inch
Philips-এর এই নতুন টিভির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর Frameless Design। অর্থাৎ স্ক্রিনের চারপাশে কোনো মোটা ফ্রেম নেই, ফলে দর্শকরা পুরো ভিউ একেবারে বাধাহীনভাবে উপভোগ করতে পারেন।
- আল্ট্রা ন্যারো বেজেল এর কারণে টিভিটি দেখতে অনেক বেশি আধুনিক ও আকর্ষণীয়।
- এর 32 ইঞ্চি ডিসপ্লে সাইজ ছোট রুম, বেডরুম বা অফিস কনফারেন্স রুমের জন্য একেবারে উপযুক্ত।
- টিভিটি হালকা ও মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি সহ তৈরি হওয়ায় সহজেই ওয়াল মাউন্ট বা টেবিল-স্ট্যান্ডে বসানো যায়।
ডিজাইনের দিক থেকে এটি বাজারে থাকা অন্যান্য বাজেট টিভির চেয়ে অনেক বেশি প্রিমিয়াম ফিল দেয়।
২. ডিসপ্লে কোয়ালিটি Philips Frameless 32 Inch
টিভি কেনার ক্ষেত্রে ডিসপ্লে বা ছবি দেখার মানই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Philips এই মডেলে দিয়েছে একটি HD Ready LED স্ক্রিন (1366×768 পিক্সেল)।
- এতে রয়েছে HDR10 সাপোর্ট, যার ফলে হাইলাইট ও ডার্ক সিন উভয়ই পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
- Wider Colour Gamut প্রযুক্তি থাকার কারণে রঙ আরও জীবন্ত ও প্রাকৃতিকভাবে ফুটে ওঠে।
- সিনেমা, স্পোর্টস কিংবা অ্যানিমেশন—সবকিছুর ভিজ্যুয়াল অনেক বেশি রিয়ালিস্টিক মনে হবে।
- 32 ইঞ্চির জন্য HD Ready রেজোলিউশন যথেষ্ট, তবে 4K টিভির সঙ্গে তুলনা করলে কিছুটা সীমাবদ্ধ মনে হতে পারে।
তবুও, যারা মূলত দৈনন্দিন টিভি দেখা ও OTT কনটেন্ট উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এই ডিসপ্লে দারুণ।
৩. সাউন্ড সিস্টেম
টিভি শুধু ছবি দেখার জন্য নয়, বরং সাউন্ড কোয়ালিটিও অভিজ্ঞতার বড় অংশ। Philips এই টিভিতে দিয়েছে 24W RMS আউটপুট স্পিকার।
- এতে রয়েছে Dolby Audio প্রযুক্তি, যা সিনেমা হলে বসে দেখার মতো পরিষ্কার ও জোরালো সাউন্ড প্রদান করে।
- ভয়েস ক্লিয়ারিটি চমৎকার, ফলে ডায়ালগ স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
- মিউজিক শোনার সময় যথেষ্ট বেস এবং ট্রেবল পাওয়া যায়।
- মাঝারি আকারের রুমে আলাদা সাউন্ডবার ছাড়াই ভালো অডিও এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া সম্ভব।
অবশ্য যারা বেশি থিয়েটারিক ফিল চান, তাদের জন্য এক্সটার্নাল স্পিকার বা সাউন্ডবার যুক্ত করলে অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে।
৪. স্মার্ট টিভি ফিচার Philips Frameless 32 Inch
২০২৫ সালের এই মডেলের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর Google TV ইন্টারফেস।
- এতে রয়েছে Google Assistant, যার মাধ্যমে আপনি ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন বলুন—“Play latest movie trailer on YouTube”, আর টিভি তা চালু করে দেবে।
- Built-in Chromecast থাকায় মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে সরাসরি কনটেন্ট কাস্ট করা যায়।
- Google Play Store থেকে হাজারো অ্যাপ ও গেম ইনস্টল করা সম্ভব।
- Netflix, Amazon Prime Video, Disney+ Hotstar, Sony Liv, YouTube—সব জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সহজেই অ্যাক্সেস করা যায়।
এছাড়া, টিভিটিতে রয়েছে 8GB ইন্টারনাল স্টোরেজ, যা প্রয়োজনীয় অ্যাপ ও কিছু মিডিয়া ফাইল রাখার জন্য যথেষ্ট।
৫. পারফরম্যান্স Philips Frameless 32 Inch
একটি স্মার্ট টিভির পারফরম্যান্স নির্ভর করে এর প্রসেসর ও সফটওয়্যারের উপর।
- Philips Frameless TV-তে ব্যবহৃত হয়েছে Quad-Core Processor, যা দ্রুত অ্যাপ লোড ও স্মুথ ন্যাভিগেশন নিশ্চিত করে।
- মেনু সিস্টেম একেবারেই সহজবোধ্য, ফলে নতুন ব্যবহারকারীরাও সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।
- ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের সময় কোনো ল্যাগ বা ফ্রিজিং সমস্যা খুব কমই দেখা যায়।
OTT প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব ভিডিও বা নরমাল টিভি শো—সব ক্ষেত্রেই এর পারফরম্যান্স নির্ভরযোগ্য।
৬. কানেক্টিভিটি অপশন Philips Frameless 32 Inch
একটি স্মার্ট টিভিকে বিভিন্ন ডিভাইসের সঙ্গে কানেক্ট করার সুবিধা থাকা খুবই জরুরি। Philips এই টিভিতে দিয়েছে—
- Wi-Fi এবং Bluetooth সাপোর্ট
- ২টি HDMI পোর্ট (গেম কনসোল বা সেট-টপ বক্সের জন্য)
- ২টি USB পোর্ট (পেন ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভ যুক্ত করার জন্য)
- AV ইনপুট ও হেডফোন জ্যাক
এই কানেক্টিভিটি অপশনগুলো টিভিটিকে সত্যিকারের মাল্টিমিডিয়া সেন্টার বানিয়ে তোলে।
৭. এনার্জি সেভিং টেকনোলজি Philips Frameless 32 Inch
Philips সবসময় এনার্জি এফিশিয়েন্সির দিকে নজর রাখে।
- টিভিটিতে রয়েছে Energy Saving Mode, যা বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনে।
- দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলেও বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলকভাবে কম আসবে।
- পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে মানানসই।
৮. ইউজার এক্সপেরিয়েন্স
গ্রাহকদের রিভিউ অনুযায়ী এই টিভির সবচেয়ে ভালো দিক হলো এর ডিসপ্লে ক্ল্যারিটি, স্মার্ট ফিচার এবং সাউন্ড কোয়ালিটি।
- ছোট পরিবার বা ব্যাচেলর রুমের জন্য একেবারে পারফেক্ট।
- OTT কনটেন্ট ভক্তদের জন্য এটি অসাধারণ এক সঙ্গী।
- গেম কনসোল (যেমন PlayStation বা Xbox) কানেক্ট করলে ভালো গেমিং এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যায়।
তবে 4K বা Ultra HD কনটেন্ট প্রেমীদের জন্য এটি সীমিত মনে হতে পারে।
৯. ভারতের দাম Philips Frameless 32 Inch
Philips সবসময় ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ করে। এই মডেলটির দামও সাশ্রয়ী রাখা হয়েছে।
ভারতে Philips Frameless 32-inch Smart Google TV (2025) এর দাম প্রায় 10,499 টাকা।
(বিভিন্ন অফার বা ফেস্টিভ সেলে দাম কিছুটা কম হতে পারে।)
Read More :- Realme Me P3x 5G – ৬০০০mAh ব্যাটারি ও ওয়াটারপ্রুফ ফোন মাত্র ১৩,০০০ টাকার নিচে
১০. কেন কিনবেন এই টিভি?
প্রধান সুবিধা:
- ফ্রেমলেস আধুনিক ডিজাইন
- HDR10 ও Wider Colour Gamut ডিসপ্লে
- 24W Dolby Audio সাউন্ড
- Google TV প্ল্যাটফর্ম ও Google Assistant
- 8GB স্টোরেজ
- Energy Saving ফিচার
সীমাবদ্ধতা:
- শুধু HD Ready রেজোলিউশন (4K নয়)
- স্টোরেজ সীমিত
উপসংহার
যারা একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি অথচ স্মার্ট ফিচারে ভরপুর টিভি চান, তাদের জন্য Philips Frameless 80 cm (32-inch) HD Ready LED Smart Google TV (2025) একটি অসাধারণ পছন্দ হতে পারে।
OTT প্ল্যাটফর্মে সিরিজ বা মুভি দেখা, ইউটিউব ভিডিও উপভোগ, পরিবারের সঙ্গে মিউজিক শোনা কিংবা গেম খেলা—সব ক্ষেত্রেই এই টিভি দেবে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স।
ডিজাইন ও স্মার্ট ফিচারের দিক থেকে এটি বাজারে থাকা অন্য 32 ইঞ্চি স্মার্ট টিভির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। বিশেষ করে এর ফ্রেমলেস লুক, Dolby Audio সাউন্ড এবং Google TV ইন্টারফেস এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
যদি আপনি কম বাজেটে একটি স্মার্ট, এনার্জি এফিশিয়েন্ট এবং দীর্ঘস্থায়ী টিভি চান, তবে Philips-এর এই নতুন মডেলটি আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে।

