ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: প্রিমিয়াম লেদার টাচে এক অনন্য সৌন্দর্য
Motorola Edge 40 হলো এমন একটি স্মার্টফোন, যা হাতে নিলেই তার ডিজাইনের পরিশীলিততা অনুভব করা যায়। ফোনটির পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে Vegan Leather ফিনিশ, যা একদিকে নরম স্পর্শ দেয়, অন্যদিকে শক্ত গ্রিপ বজায় রাখে। ফলে ফোনটি হাতে ধরা বেশ আরামদায়ক এবং পিছলে পড়ার আশঙ্কা কম।
এর 3D কার্ভড ডিসপ্লে এবং স্যান্ডব্লাস্টেড অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ফোনটিকে আরও প্রিমিয়াম করে তুলেছে। মাত্র 7.58mm পুরুত্ব ও 171 গ্রাম ওজনের এই ফোনটি দেখতে যেমন স্লিম, ব্যবহারেও তেমনই আরামদায়ক।
ফোনটি IP68 রেটেড, অর্থাৎ এটি ধুলো ও পানির প্রতিরোধী। এমনকি আপনি চাইলে এটি ১.৫ মিটার গভীর জলে ৩০ মিনিট পর্যন্ত রাখতে পারবেন কোনো ক্ষতি ছাড়াই। ফলে এটি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ব্যবহারকারীদের জন্য একটি দারুণ সঙ্গী।
ডিসপ্লে: 144Hz 3D pOLED স্ক্রিনে সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা – Motorola Edge 40
Motorola Edge 40-এ আছে 6.55 ইঞ্চির Full HD+ pOLED ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন 2400×1080 পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট 144Hz। ফলে স্ক্রলিং, গেমিং কিংবা ভিডিও স্ট্রিমিং—সব কিছুই হয় মসৃণ ও ল্যাগ-ফ্রি।
ডিসপ্লেটির 1200 nits পিক ব্রাইটনেস রোদেও দারুণ দৃশ্যমানতা দেয়। পাশাপাশি এতে রয়েছে HDR10+ ও DCI-P3 কালার গামুট, যা রঙকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
কার্ভড ডিসপ্লের কারণে ফোনের ভিউ বেশ ইমারসিভ, আর in-display fingerprint sensor নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রিমিয়াম ফিলও বাড়িয়ে দেয়। আর একটি আকর্ষণীয় ফিচার হলো Edge Lighting, যা নোটিফিকেশন বা কল এলে স্ক্রিনের প্রান্তে আলো জ্বেলে জানিয়ে দেয়—দারুণ একটা কাস্টম টাচ!
পারফরম্যান্স: Dimensity 8020 প্রসেসরের শক্তিশালী উপস্থিতি – Motorola Edge 40
ফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে MediaTek Dimensity 8020 চিপসেট, যা একটি Octa-Core 2.6GHz প্রসেসর। এটি 6nm আর্কিটেকচারে তৈরি হওয়ায় পাওয়ার ইফিশিয়েন্ট এবং হিট ম্যানেজমেন্টেও কার্যকর।
সাথে রয়েছে 8GB LPDDR4X RAM এবং 256GB UFS 3.1 স্টোরেজ, যা দ্রুত ফাইল অ্যাক্সেস ও মাল্টিটাস্কিং নিশ্চিত করে। গেমারদের জন্য ফোনটি সত্যিকারের পাওয়ারহাউস — PUBG, BGMI, Asphalt 9 কিংবা COD Mobile—সব গেমই চলে আল্ট্রা সেটিংসে ল্যাগ ছাড়া।
ফোনটিতে আছে Hypercrystal Graphite Cooling System, যা দীর্ঘক্ষণ গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের সময় ফোনকে ঠান্ডা রাখে।
নেটওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি: ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত 5G অভিজ্ঞতা – Motorola Edge 40
Motorola Edge 40-এ রয়েছে ১৪টি 5G ব্যান্ড সাপোর্ট, ফলে আপনি ভারতে যেকোনো টেলিকম অপারেটরের 5G নেটওয়ার্ক উপভোগ করতে পারবেন।
এর পাশাপাশি আছে WiFi 6 প্রযুক্তি, যা গতি ও স্থিতিশীলতা দুই-ই বাড়িয়ে দেয়। NFC, Bluetooth 5.2, এবং Type-C 2.0 পোর্টের মাধ্যমে ফোনটি সর্বাধুনিক কানেক্টিভিটি স্ট্যান্ডার্ড পূরণ করেছে।
ক্যামেরা: 50MP OIS সহ পেশাদার মানের ফটোগ্রাফি -Motorola Edge 40
ফোনটির প্রধান আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এর ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সিস্টেম।
- 50MP প্রাইমারি সেন্সর (f/1.4 aperture, OIS, Omni-directional PDAF)
- 13MP আলট্রা-ওয়াইড + ম্যাক্রো লেন্স (120° FOV)
ফোনের f/1.4 অ্যাপারচার একে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে—এটি বর্তমানে স্মার্টফোন জগতে অন্যতম বৃহত্তম অ্যাপারচার, যা আরও বেশি আলো ধারণ করতে পারে, ফলে রাতের ছবিও উজ্জ্বল ও ডিটেইলড আসে।
OIS (Optical Image Stabilization) থাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এবং ফটো—দুটোই শার্প ও স্থিতিশীল হয়। এছাড়াও আছে Horizon Lock, যা ভিডিও ঘোরালেও স্থিতিশীল ফ্রেম ধরে রাখে।
ভিডিও রেকর্ডিংয়ে এটি 4K 30fps পর্যন্ত সাপোর্ট করে, আর স্লো-মোশন ভিডিওর জন্য আছে 240fps ফ্রেম রেট।
সেলফি প্রেমীদের জন্য আছে 32MP ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা Quad Pixel টেকনোলজিতে চার গুণ বেশি আলো গ্রহণ করে। ফলে লো-লাইট সেলফিতেও থাকে ডিটেইল ও উজ্জ্বলতা।
ব্যাটারি ও চার্জিং: মুহূর্তের মধ্যে চার্জ, দিনের পর দিন ব্যবহার – Motorola Edge 40
ফোনটিতে আছে 4400mAh ব্যাটারি, যা একটানা ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। এর সাথে থাকছে 68W TurboPower চার্জার, যা মাত্র ১০ মিনিটেই প্রায় পূর্ণ চার্জ করে দিতে পারে—এটি সত্যিই চমকপ্রদ।
এছাড়াও এটি 15W Wireless Charging সাপোর্ট করে, যা এই প্রাইস রেঞ্জে খুবই বিরল একটি ফিচার। ফলে তারবিহীন চার্জিংয়ের সুবিধা পাবেন একদম প্রিমিয়াম লেভেলে।
অডিও ও মাল্টিমিডিয়া: Dolby Atmos সহ 3D সাউন্ড অভিজ্ঞতা
Motorola Edge 40-এর স্টেরিও স্পিকারগুলো Dolby Atmos দ্বারা টিউন করা, ফলে শব্দ হয় পরিষ্কার, ডাইনামিক এবং সিনেমাটিক।
গান শোনা বা সিনেমা দেখার সময় আপনি অনুভব করবেন যেন শব্দ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে—এটিই Moto Spatial Sound প্রযুক্তির বিশেষত্ব।
সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা: Android 13 সহ সম্পূর্ণ নিরাপদ অভিজ্ঞতা
Motorola Edge 40 এসেছে Android 13 অপারেটিং সিস্টেমসহ, যা পরিচ্ছন্ন ও বিজ্ঞাপনমুক্ত। আপনি নিজে থেকে থিম, রঙ, আইকন, এমনকি ভাষাও কাস্টমাইজ করতে পারবেন।
নিরাপত্তার দিক থেকে ফোনটিতে রয়েছে ThinkShield ও Moto Secure, যা ফোনকে ম্যালওয়্যার, ফিশিং ও হ্যাকিং থেকে সুরক্ষা দেয়।
Moto Secure অ্যাপে আপনি পাবেন App Lock, Network Protection, Permission Manager, এবং একটি Secret Folder—যেখানে আপনি সংবেদনশীল ফাইল বা ছবি লুকিয়ে রাখতে পারেন।
“Ready For” ফিচার: ফোন থেকেই টিভি স্ক্রিনে স্মার্ট অভিজ্ঞতা
Motorola Edge 40-এর “Ready For” ফিচারটি আপনাকে ফোনটি ওয়্যারলেসভাবে টিভিতে কানেক্ট করতে দেয়। ফলে আপনি বড় পর্দায় গেম খেলতে, ভিডিও কল করতে বা ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি ফোনের উচ্চমানের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্সিং করাও সম্ভব।
সেন্সর ও অন্যান্য ফিচার
ফোনটিতে রয়েছে আধুনিক সব সেন্সর —
- In-display fingerprint sensor
- Proximity, Accelerometer, Ambient Light, E-Compass
- Face Unlock সাপোর্ট
- তিনটি মাইক্রোফোন সিস্টেম
- Voice Control (Google Assistant)
- Gesture Controls যেমন — Twist to open camera, Chop to turn on flashlight, Three-finger screenshot ইত্যাদি।
বক্সে যা পাবেন
- Motorola Edge 40 হ্যান্ডসেট
- 68W TurboPower চার্জার
- USB Type-C কেবল
- SIM ejector tool
- Protective case
- Quick Start গাইড
চূড়ান্ত মতামত
Motorola Edge 40 হলো এমন একটি স্মার্টফোন, যা পারফরম্যান্স, ডিজাইন ও নির্ভরযোগ্যতার মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখেছে।
শক্তিশালী Dimensity 8020 প্রসেসর
অসাধারণ 144Hz pOLED ডিসপ্লে
দ্রুত 68W চার্জিং + 15W ওয়্যারলেস চার্জিং
প্রিমিয়াম Vegan Leather ডিজাইন
উন্নত ThinkShield সিকিউরিটি
Motorola Edge 40 price in India
সব মিলিয়ে 29,990 দামের মধ্যে এটি একটি ফ্ল্যাগশিপ-গ্রেড স্মার্টফোন, যা অন্য ব্র্যান্ডের ৪০-৪৫ হাজার টাকার ফোনের সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারে।
যারা চান স্টাইলিশ ডিজাইন, ফাস্ট পারফরম্যান্স ও অসাধারণ ডিসপ্লে অভিজ্ঞতা—তাদের জন্য Motorola Edge 40 নিঃসন্দেহে একটি পারফেক্ট পছন্দ।
মূল্য ভারতে: 29,990 (Flipkart-এ উপলব্ধ)
ভ্যারিয়েন্ট: 8GB RAM | 256GB ROM
ব্যাটারি: 4400mAh | 68W TurboPower + 15W Wireless
Read More :- Motorola g35 5G ; মাত্র ৯৯৯৯ টাকার মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন আলট্রা হোয়াইট ক্যামেরা

